ফ্রিল্যান্সিং করতে চান ?

নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান বা বা করতেছেন তাদের জন্য কিছু কথা …
এ কথাগুলো আমার নয়। আমার দেখা কিছু সফল মানুষদের উপর ভিত্তি করে বলা।

ফ্রিল্যান্সিং কি ?

ফ্রিল্যান্স শব্দের অর্থ হচ্ছে মুক্তপেশা . সো ফ্রিল্যান্সিং মানে দাঁড়াচ্ছে এমন একটা পেশা যেখানে আপনি কারো বাধ্যগত নন। আপনার ইচ্ছার উপর আপনার কাজ নির্ভর করবে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি কোন ক্লায়েন্ট আপনাকে বললো, ” তুমি কি আমার ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দিবা “
আপনি ইচ্ছা হলে হ্যা অথবা না যেকোন একটা বলে দিতে পারেন । সে আপনার উপর কোনরুপ ফোর্স করতে পারবে না । এটাই ফ্রিল্যান্সিং …
আমরা মুলত এর অনলাইন ভার্সনটাকেই ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে জানি বা মানি ।

ফ্রিল্যান্সার কেন হবেন বা কার জন্য ?

ফ্রিল্যান্সার হবার পেছনে প্রধান কারন এর এর নামের পেছনেই লুকায়িত। এই যে বললাম আপনি কারো বাধ্যগত নন। জন্মগত ভাবেই প্রতিটি মানুষই চায় না কেউ তার উপর কতৃত্ব স্থাপন করুক। সে হিসেবে বলা যায় আপনিও চান না।
এইসব কারনেই আপনি ফ্রিল্যান্সার হবেন।
কার জন্য ?
ফ্রিল্যান্সিং জগতে প্রধান শক্তি হচ্ছে স্কিল। এখানে বিসিএস এর সার্টিফিকেট কিংবা CGPA 4 নিয়ে CSE তে MSc করলেই জব পাবেন এমন না। এখানে জব পাবেন আপনার স্কিলের উপর।
এ জগতে যার স্কিল যত বেশী সে তত ভালোমানের ফ্রিল্যান্সার ।

ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে কি করতে হবে ?

অনেককিছুর সমন্বয়ে একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়। আসেন এক এক করে সবগুলা explore করি ।

ক) English এ ভালো জ্ঞানঃ ইংলিশ ইন্টারন্যাশনাল ভাষা । আপনাকে একজন ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অবশ্যই ভালো ইংলিশ জানতে হতে। ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে আপনাকে বাহিরের দেশের অনেকের সাথে কথা বলা লাগবে, অনেক বাহিরের ব্লগ পড়তে হবে, অনেক মার্কেটপ্লেসে জয়েন থাকতে হবে।
এসব করতে গেলে বাংলা ভাষা জানলে চলবে না । ইংলিশ অবশ্যই জানতে হবে।

খ) স্কিলঃ হ্যা এবার আপনাকে যা অর্জন করতে হবে তা হলো স্কিল। এই স্কিল মানে হচ্ছে আপনার ধানের ক্ষেতে মই দেওয়া স্কিল না । অনলাইন এ কাজ করার মত স্কিল। আপনি কম্পিউটার ওপেন করতে পারেন এটা কোন স্কিল না। কম্পিউটারের সাহায্যে নতুন কিছু তৈরী করতে পারেন সেটাই স্কিল।
যেমন ধরেন কোন গ্রাফিকাল ওয়ার্ক, কোন অ্যাপ বানানো, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ব্লা ব্লা ব্লা ।

আপনি কি করবেন ?
সর্বপ্রথম আপনি সিলেক্ট করবেন আপনি কি হতে চান ?
একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ওয়েবডিজাইনার,প্রোগ্রামার,ইন্টারনেট মার্কেটার নাকি অন্যকিছু …
প্রথমে সেটা সিলেক্ট করুন । তারপর সেটা সম্পর্কে যত পারেন খোজখবর নেন। দেখা গেলো এমন একটা স্কিল আপনি আর্ন করলেন সেটার দর আলু পটলের মত। সবখানেই পাওয়া যায়। এরকম না করে কিছু স্পেসিফিক ভালো স্কিল গ্যাদার করুন ।
এখানে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়,
কিভাবে স্কিল অর্জন করবেন ?
প্রথমত দেশে ভালো কিছু ট্রেনিং সেন্টার আছে সেখানে যেতে পারেন। তারা কিছু পারুক আপনাকে দিবে। সেটুকু নিয়ে যদি আপনি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে ভালো। আর আপনি যদি ভাবেন আরো কিছু দরকার তাহলে অনলাইনে সার্চ করেন । ইউটিউব/ব্লগ/ফোরাম ভালোভাবে ঘাটাঘাটি করেন। আমি হলফ করে বলতে পারি এগুলো আপনার জ্ঞান বাড়াতে সাহায্য করবে।

গ) স্কিল তো হলো এবার ?

এবার সেই স্কিল কে কাজে লাগিয়ে কিছু তৈরী করুন। সেটাকে নিজের পোর্টফোলিও হিসেবে কাজে লাগান। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে জয়েন করুন। সেখানে নিজের করা কাজগুলো শো করুন। এবং অপেক্ষা করুন…
আশাকরি কাজ পেয়ে যাবেন।

কাজ তো পাচ্ছিনা কি করবো ?
হ্যা আপনি কাজ না পেতেই পারেন। হতাশ হবেন না, অপেক্ষা করুন। অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে যে জিনিসটা আপনাকে অবশ্যই আপন করে নিতে হবে সেটা হলো ” ধৈর্য”। ধৈর্য ধরুন। নিজের পোর্টফোলিও বড় করুন। একদিন অবশ্যই আপনার অপেক্ষার শেষ হবে।

ঘ) কাজ পাওয়ার পর কি করবেন ?

প্রথমত মনে রাখতে হবে ক্লায়েন্ট কে খুশি করা। সবসময় খেয়াল রাখবেন আপনি যার কাছে কাজ নিয়েছেন সে যেন আপনার কাজে সন্তুষ্ট হয়। তাকে খুশি করতে পারলে তার মাধ্যমে আপনি আরো ১০ টা কাজ পেতে পারেন।

আশাকরি বিষয়গুলো ক্লিয়ার করতে পেরেছি। কতটুকু পেরেছি জানিনা।এগুলো শুধু নতুনদের জন্য। এখানে যদি কোন কিছু আমি না লিখে থাকি তাহলে অভিজ্ঞরা সেটা ধরিয়ে দিন। নতুনরা জানুক ।
আর নতুনরা আপনাদের কোন সমস্যা থাকলে কমেন্ট এ প্রশ্ন করুন।
অভিজ্ঞরা আশাকরি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিবেন …

হ্যাপী ফ্রিল্যান্সিং …

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *