রেললাইন এবং রেলের গল্প…

ধরুন একটা রেললাইন ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গিয়েছে। লম্বা আঁকাবাঁকা লাইন। দুইপাশে লোহার লাইন বসে আছে শক্ত বড় বড় সাইজের পাথরের উপর।
ট্রেনের ড্রাইভার যে কেউ হতে পারে। কিন্তু ড্রাইভারের ক্ষমতা নাই ট্রেনকে সেই লাইনের বাইরে নিয়ে গিয়ে চালাতে। যদি সে চেস্টা করে তখন সেই রেলগাড়িটাই যাত্রীসমেত ধ্বংস হয়ে যায়। ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী সেই রেললাইনের ক্ষতিটা হয় খুবই সামান্য। কিছুদিনের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। তারপর সেই লাইন মেরামত হয় আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এই যে সরকার ব্যবস্থা, এটা একটা রেললাইন আর সরকার হচ্ছে সেই রেললাইন চলা ট্রেনের ড্রাইভার। নো ম্যাটার কোন ড্রাইভার এটা চালাচ্ছে ড্রাইভার চালাচ্ছে সে চাইলেও রেললাইনের বাইরে গিয়ে ট্রেন চালাতে পারবে নাহ।
যতক্ষণ পর্যন্ত না ঐ রেললাইনের পাশে নতুন কোন রেললাইন তৈরী হয়। আর নতুন রেললাইন তৈরী করতে প্রয়োজন হয় অনেক দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার, কর্মঠ শ্রমিক আর একটা সদিচ্ছা আর সরঞ্জামের।
সুতরাং, সরকার ব্যবস্থা নামক রেললাইন যদি ঠিক করতেই হয়ে তাহলে আপনাকেই হতে হবে সেই ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক, সরঞ্জাম, সদিচ্ছার অধিকারী।
আপনি নিজেই প্রতিজ্ঞা করুন নিজে ঘুষ খাবো নাহ, কাউকে ঘুষ দিব নাহ। আপনার ছেলেমেয়েকে বিসিএস এর জন্য বা সরকারী চাকুরীর জন্য না শিক্ষিত করার জন্য স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পাঠাবেন। একটা মেয়ের দিকে ঠিক সেই নজরেই তাকাবেন যেমনটা আপনার বোন অথবা মায়ের দিকে তাকান। সামনে থাকা মানুষটা আপনার প্রতিদ্বন্দী হতেই পারে সেটা কর্মে, দক্ষতায় কিন্তু তাই বলে ব্যক্তিগত আক্রোশ, ক্ষোভ অথবা প্রতিহিংসা থাকা যাবে না তার প্রতি।
হয়তো বলতে পারেন এভাবে একার পরিবর্তনে কি সম্ভব? না আপনি একা না। আপনি একটা সমাজ। আপনার পরিবর্তনেই সমাজ পরিবর্তন।
হ্যাঁ এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। যেমনটা সময় লাগে একটা রেল লাইন তৈরী করতে।
কিন্তু একবার যদি তৈরী হয়ে যায় তখন সে লাইনে যে ড্রাইভারই ট্রেন চালাক না কেন তার ক্ষমতা নাই লাইনের বাইরে গিয়ে ট্রেন চালাতে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *