হিমুর সাথে রুপালী রাত্রি

পরিবেশ অবস্থাটাও সুবিধার নয় ।কখনো বা আকাশের চোখ পানিতে টলমল । এই বুঝি বৃষ্টি নামবে । কিন্তু কেন জানি বৃষ্টি হচ্ছে না । সালার মন টাও খারাপ বাবা বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেবার আর সময় পেলো না । এইটা উনার প্রতি মাসের নিয়মিত কর্মকাণ্ড । এবারের দোষ ছিলো সকাল ৭ টায় না খেয়ে ৮০ কিমি দূরে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম । বাড়ি থেকে বেড়িয়ে হাটছিলাম । প্রত্যেকবারের মত এবারো উদ্দেশ্য দেড় কিমি দূরে থাকা আমার খালার বাড়ি । এখন ঐখানেই ২/৩ দিন থাকা লাগবে তারপর আম্মু এসে নিয়ে যাবে । রাস্তায় হাটছি, রাত কটা বাজে জানিনা । মোবাইল এর চার্জ শেষ । তবে অনুমান করতে পারছি সাড়ে দশটার মত হবে মনে হয় । হাটতে হাটতে হঠাত আমার চোখ চরক গাছ এর মত হয়ে গেলো । আমার ঠিক ১০ মিটার দূরে একটি অবয়ব গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি । উনি আমার সামনে সামনে হাটছেন । কতক্ষন ধরে হাটছেন তা খেয়াল করিনি । কৌতুহল বশত দৌড়ে সামনে গিয়ে দেখি এ যে হিমু । হুমায়ুন আহমেদ এর হিমু । টাকে দেখকে এক মুহূর্তে থ হয়ে গেলাম । সে দেখি কোন ভ্রুক্ষেপ না করে হাটেই থাকলো । উনি হাটছেন আমিও তার পিছন পিছন হাটছি । সে বুঝতে পেরে আমাকে ডাকল । এই শুনেন । আমি একরকম ছুটেই গেলাম যদিও দুরত্ব ১০ পায়ের বেশি ছিলো না ।
নাম কি ?
রনি ? আপনি হিমু না ?
হুম্ম হিমু । বাবা বাসা থেকে বের করে দিয়েছে ?

আচ্ছা হিমু ভাই আমি যদি আপার সাথে হাটি কোন সমস্যা আছে ?
নাহ ।
আবার চারদিক চুপচাপ ।হিমু ভাই হাটছেন আমি তার পাশে হাটছি ।
প্রায় ঘন্টাখানেক হাঁটলাম । কিন্তু উনার গন্তব্য বুঝতে পারলাম না । তাকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম । হিমু ভাই কোথায় যাচ্ছেন ?
জ্যোৎস্না দেখতে ।
এতক্ষনে হুশ এলো আজকে পূর্ণিমা ।
আবার দুইজন হাটছি । হঠাত এক ঝুপড়ির কাছে গিয়ে থামলেন । মিলি মিলি বলে ডাকতে থাকলেন । হঠাত ঝুপড়ি থেকে একটি ৯ বছরের মেয়ে বের হয়ে আসলো ।
আরে হিমু ভাই কেমন আছেন ।
কেমন আছি কি করছি এইসব বাদ দে । খাবি চল ।
তিনজনেই একটা হোটেলে গেলাম । ইচ্ছামত খেয়ে বের হয়ে আসলাম । দেখলাম হোটেল মালিকও কিছু বললেন না । তার মানে এইটাও হিমু ভাইয়ের পূর্ব পরিচিত হোটেল । মিলি আবার তার ঝুপড়ির দিকে ফিরে গেলো ।
এইবার হিমু ভাই একটি খোলা মাঠের দিকে এগুলেন । আকাশে তখন চাঁদ তার পুরো আলো ছড়ীয়ে আছে ।

বালির মধ্যে শুয়ে আছি আমরা দুইজন । আকাশের দিকে তাকিয়ে জ্যোৎস্না দেখছি ।গায়ে বালি কেমন খসখসে লাগছে । হঠাত দেখি পুলিশের হুইসেল । দুইরকম দৌড়ের শব্দ । মনে হচ্ছে কে জানি দৌড়াচ্ছে আর পিছনে আর কে জানি তাকে তাড়া করছে । হিমু ভাই দেখি সবকিছু ভুলে চাদের দিকে তাকিয়ে আছে । হঠাত আমার পাশেই কি যেন একটা ঝুপ করে পড়লো । আমি তাকিয়ে দেখি একটি ব্যাগ । হিমু ভাই জ্যোৎস্না দেখছে তাই তাকে না ডেকে আমি ব্যাগের চেইন খুলে দেখি ব্যাগ ভর্তি টাকা । কি করবো বুঝতে পারছিলাম না ।হিমু ভাইকে ডাকলাম । কোন সাড়া নাই । এভাবে কিছুক্ষন কাটলো । হঠাত পুলিশ এসে আমাদের দুজনকে ধরলেন । হিমু ভাই এর দেখি কোন ভ্রুক্ষেপ নাই ।মনে হয় এই ব্যাপার টা উনি আগে থেকেই জানতেন । আমাদের কে হাতকড়া লাগানো হলো । দুইজন পুলিশ আমাদের নিয়ে যাচ্ছে । আরেকজন ফোনে কার সাথে জানি কথা বলছে । বোঝা জায় ইনিই এদের মধ্যে উচু মাপের পুলিশ অফিসার ।
গাড়িতে তুলে ঐ লোকটি জিজ্ঞেস করলো কি নাম ।

হিমু

কি ?

হিমালয় হিমু ।

ফাজলামি হচ্ছে ?

ফাজলামি হয় কেমন করে ? আমার নাম হিমু ।

ওহ আচ্ছা নতুন ভোল ধরেছিস ।
ঐ তোর নাম কি । বুঝলাম আমাকে জিজ্ঞেস করলো ।

রনি
এইবার লোক টি আবার কাকে যেন ফোন করে বলছে । স্যার মফিজ গ্যাং এর দুইজন কে ধরেছি । এদের একজন এর নাম রনি আরেকজন নাম বলছে না ।
হঠাত হিমু ভাই বলে ঊঠলেন ।
কেরামত সাহেব আপনার মেয়ে এখন হাসপাতালে ।
কিহ?????? আবার ফাজলামো হচ্ছে । দিবো নাকি দুইটা লাঠির মাইর ।
দুইটা লাঠির মাইর দেন আর ২০০ টা লাঠীর মাইর দেন ।আপনি হাসপাতালে চলেন । আচ্ছা আপনার স্ত্রীর গালের কাটা দাগ টা মিশেছে ?
এইবার লোকটা একটু হচকচিয়ে গেলো ।
আপনি কেমন করে জানলেন ।
এইবার হিমু ভাই তার সেই ঐতিহ্যবাহী ভঙ্গীটাই করলেন কিন্তু মুখে কিছুই বললেন না । শান্ত ভাবে বললেন

সিগারেট হবে স্যার ?

নাহ ।

আচ্ছা ।
থানায় এসেই দেখলাম একটি লোক প্রায় দৌড়ে আসলো গাড়ির কাছে ।
কেরামত সাহেব এবং বাকি দুইজন দেখি তাকে স্যালুট দিচ্ছে ।
কোথায় আসামী ?
গাড়ীতে স্যার ।
লোকটি এবার আমাদের দিকে দিকে এসেই অনেকটা চিৎকার করেই বললেন
হিমু ভাই !
কে জলিল সাহেব ।
হুম । আপনাকে ধরে এনেছে ?
আপনি এইখানে ?
এইত গত মাসে বদলি হয়েছি ।
ওহ । আচ্ছা ভাই হাতকড়া টা খুলেন তো আর এক কাপ চা খাওয়ান ।
জলিল সাহেব দুই পুলিশের একজন কে চা আনতে পাঠালেন । কেরামত সাহেব কে বললেন হাতকড়া খুলে দিতে । কেরামত সাহেব তো অবাক ।
তখন জলিল সাহেব বলল । কেরামত সাহেব এ কাকে ঈছেন । ইনি তো হিমু ভাই । ইনি আবার মফিজ গ্যাং এর সদস্য কেমন করে হয় ।
স্যার ।
আচ্ছা শুনুন আপনার মেয়ে এক্সিডেন্ট করেছে হাসাপাতালে আছে । আপনি অপারেশন এ ছিলেন বলে জানানো হয় নাই ।
এইবার কেরামত সাহেব এক্কেবারে স্থির হয়ে দাড়িয়ে গেলেন । মনে হয় না তিনি আর চলতে পারবেন । উনার মুখ থেকেও কোথা বের হচ্ছে না ।
ততক্ষনে চা এসে গেছে । আমি এবং হিমু ভাই চা খেয়ে বের হলাম । হিমু ভাই বাইরে এসেই একটা সিগারেট ধরালেন । সিগারেট টা কেরামত সাহেবের দেওয়া ।বাইরে এসে দেখি ভোর হয়ে গেছে । এবার আমি খালার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম । হিমু ভাই দেখি একটা পার্কের দিকে হেটে গেলেন । তবে যাবার সময় একটি কথাও বললেন না ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *